rail.bd
NewsChatterAll Trains
← ফিরে যান
amarsangbad.com
Mar 7, 2026

যোগাযোগ বিপ্লবের সারথি হাবিবুর রশিদ: রেলপথ ও সড়ক পরিবহনের একক দায়িত্বে নতুন দিগন্ত

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভায় রদবদলে হাবিবুর রশিদকে রেলপথ ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের একক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রিসভায় এক যুগান্তকারী ও কৌশলগত পুনর্গঠন সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় মন্ত্রী সভার দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। এই রদবদলে সবচেয়ে আলোচিত নাম হাবিবুর রশিদ। ইতিপূর্বে তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিশালাকার দপ্তরের সমন্বিত গুরুভার পালন করছিলেন। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, হাবিবুর রশিদ এখন থেকে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে একক ও নিবেদিত দায়িত্ব পালন করবেন। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে তাঁকে অব্যাহতি দিয়ে দেশের স্থলপথের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করার বিশেষ মিশন দেওয়া হয়েছে তাঁকে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে কৌশলগত বিশেষায়ন হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, নৌ-পথের বিশাল কর্মযজ্ঞ থেকে মুক্ত হয়ে হাবিবুর রশিদ এখন শুধুমাত্র সড়ক ও রেলওয়ের আন্তঃসংযোগ এবং মেগা প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে পূর্ণ শক্তি নিয়োগ করতে পারবেন। বাংলাদেশ বর্তমানে যোগাযোগ অবকাঠামোয় এক স্বর্ণযুগ অতিবাহিত করছে। তবে সড়ক, রেল এবং নৌ, এই তিনটি ভিন্নধর্মী ও বিশাল খাতের নীতিনির্ধারণী কাজ এককভাবে পরিচালনা করা ছিল অত্যন্ত দুরূহ। হাবিবুর রশিদ যখন এই তিন দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁকে প্রতিদিন হাজার হাজার কিলোমিটার সড়ক, রেলপথ এবং নৌ-বন্দরের প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কাজ তদারকি করতে হতো। সরকারের ২০৪১ সালের স্মার্ট বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নে আধুনিক সড়ক নেটওয়ার্ক এবং সাশ্রয়ী রেল যোগাযোগ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়কে আলাদা নেতৃত্বের অধীনে দিয়ে হাবিবুর রশিদকে স্থলপথের দুই প্রধান স্তম্ভ, রেল ও সড়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যাতে তিনি এই দুই খাতের মধ্যে একটি সুসমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নতুন বিন্যাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর হাবিবুর রশিদ তাঁর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় জানান, তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার হবে চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর সময়মতো বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করা। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার ওপর যে বিশ্বাস রেখেছেন, তার মর্যাদা আমি কাজের মাধ্যমে দিতে চাই। সড়ক ও রেলপথ হলো দেশের অর্থনীতির ধমনী। আমরা চাই না মানুষ যানজটে আটকে থাকুক বা ট্রেনের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করুক। স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার করে আমরা এই দুই খাতকে বিশ্বমানে উন্নীত করব। হাবিবুর রশিদ এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিচ্ছেন যখন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বিআরটি প্রকল্প এবং রেলওয়ের ডাবল লাইনের মতো কাজগুলো চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তাঁর সামনে থাকা প্রধান চ্যালেঞ্জের মধ্যে ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে এক্সপ্রেসওয়ে ও ফ্লাইওভারের কাজ দ্রুত শেষ করে যানজট নিরসন করা অন্যতম। এ ছাড়া টিকিট কালোবাজারি শতভাগ নির্মূল এবং ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় রোধে জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেম জোরদার করে রেলে শৃঙ্খলা আনয়ন করা হবে। ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচল বন্ধ করা এবং চালকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কর্ণফুলী টানেল ও পদ্মা সেতুর রেল সংযোগের পরবর্তী ধাপগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে মেগা প্রকল্প তদারকি করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। একজন অভিজ্ঞ সংগঠক হিসেবে হাবিবুর রশিদের অন্যতম শক্তি হলো তাঁর মাঠপর্যায়ের তদারকি। নৌ-পরিবহনের দায়িত্ব থেকে মুক্ত হওয়ায় তিনি এখন নিয়মিত সড়ক ও রেল প্রকল্পের স্পট ভিজিট করতে পারবেন। বিশেষ করে বহুমুখী পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর এই নতুন অবস্থান বিশেষ ভূমিকা রাখবে। উদাহরণস্বরূপ, দেশের বড় বড় কন্টেইনার টার্মিনালগুলোর সাথে সরাসরি রেল সংযোগ স্থাপন এবং মহাসড়কের ওপর চাপ কমাতে ভারী পণ্য রেলের মাধ্যমে পরিবহনের যে পরিকল্পনা সরকার হাতে নিয়েছে, তা বাস্তবায়নে হাবিবুর রশিদের একক নেতৃত্ব বিশেষ সহায়ক হবে। রেলওয়ে খাতের উন্নয়নে হাবিবুর রশিদের অধীনে বেশ কিছু বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রুটে দ্রুতগতির ট্রেন চালুর কাজ ত্বরান্বিত করার জন্য হাই-স্পিড ট্রেন সমীক্ষা করা। এ ছাড়া দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্টেশনগুলোকে আধুনিক যাত্রী সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন বিমানবন্দরের মতো প্যাসেঞ্জার হাব এ রূপান্তর করে স্টেশন সংস্কার করা হবে। রেল সেবা অ্যাপকে আরও সহজতর করার মাধ্যমে অনলাইন রিফান্ড ও অ্যাপ এর সুবিধা বাড়ানো হবে যাতে যাত্রীরা অনলাইনেই টিকিট রিফান্ড ও সিট পরিবর্তন করতে পারেন। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে হাবিবুর রশিদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে আসন্ন ঈদ বা উৎসবের সময় মহাসড়ককে যানজটমুক্ত রাখা। তিনি স্মার্ট ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালুর ওপর জোর দিচ্ছেন। এ ছাড়া ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-রংপুর চার লেন প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করা তাঁর অন্যতম রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক লক্ষ্য। হাবিবুর রশিদ সাধারণ মানুষের কাছে একজন কর্মঠ ও সৎ নেতা হিসেবে পরিচিত। সড়ক ও নৌ-পথের অভিজ্ঞতা তাঁকে রেলের জটিলতা বুঝতেও সহায়তা করবে। সাধারণ যাত্রীদের প্রত্যাশা হলো, তাঁর অধীনে ভাড়ার লাগাম টানা হবে এবং সেবার মান বহুগুণ বাড়বে। নিয়মিত এক বাস যাত্রী জানান, আমরা চাই সড়ক ও রেলে এমন এক শৃঙ্খলা ফিরুক যেন আমাদের যাতায়াত হয় নিরাপদ ও আনন্দদায়ক। হাবিবুর রশিদ সাহেব মেহনতী মানুষের ভাষা বোঝেন, তাই আমরা তাঁর ওপর আশাবাদী। হাবিবুর রশিদের কাঁধে এখন দেশের স্থলপথের আমূল পরিবর্তনের দায়িত্ব। নৌ-পথের দায়িত্ব ছেড়ে সড়ক ও রেলের ওপর পূর্ণ মনোযোগ দেওয়ার এই সিদ্ধান্তটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তিনটি দপ্তরের বিশাল চাপ থেকে মুক্ত হয়ে এখন তিনি প্রতিটি প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করতে পারবেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং সরকারের উন্নয়ন সংকল্প একীভূত হলে ২০২৬ সালে বাংলাদেশ এক নতুন যোগাযোগ যুগের সূচনা দেখবে। সড়ক ও রেলওয়েতে হাবিবুর রশিদের এই নতুন যাত্রা সফল হোক, এটাই দেশবাসীর কামনা।
সংবাদের উৎসমূল সংবাদ পড়ুন ↗
ফেসবুকে শেয়ার করুন
0