রেলওয়ে সংবাদ
ময়মনসিংহ অঞ্চলে ৮ বছরে বন্ধ ৮ ট্রেন, ২৩ স্টেশন
ময়মনসিংহ অঞ্চলে ইঞ্জিন ও লোকবল সংকটের কারণে গত আট বছরে আটটি ট্রেন ও ২৩টি রেলস্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে, যাতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় যাত্রীরা।
এক নজরে
- ময়মনসিংহ অঞ্চলে ইঞ্জিন ও লোকবল সংকটের কারণে গত আট বছরে আটটি ট্রেন ও ২৩টি রেলস্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে, যাতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় যাত্রীরা।
ময়মনসিংহ রেলস্টেশন হয়ে জামালপুর, ভৈরব ও মোহনগঞ্জে চলাচলকারী আটটি লোকাল ও মেইল ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। আট বছরের মধ্যে এসব ট্রেন চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে আছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার যাত্রীরা।
বাংলাদেশ রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ট্রেন চলাচল বন্ধের পর বিভিন্ন রেলস্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হয়। বর্তমানে ময়মনসিংহ থেকে আগে চলাচল করা বিভিন্ন রেলপথে মোট ২৩টি স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, লোকাল ও মেইল ট্রেন বন্ধ হওয়ায় দরিদ্র যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ছোটখাটো ব্যবসার মালপত্র পরিবহন ও উৎপাদিত কৃষিপণ্য পরিবহনে ব্যয় বাড়ায় অনেক দরিদ্র মানুষ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
গত রবিবার ময়মনসিংহ রেলস্টেশনে গেলে, কয়েকজন ট্রেনযাত্রী ও রেল কর্মকর্তা-কর্মচারী জানান, ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বিসকা রেলস্টেশন থেকে শত শত নারী প্রতিদিন ট্রেনে করে ময়মনসিংহ শহরে এসে বিভিন্ন তৈজসপত্র কিনে নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিক্রি করতেন। এ ছাড়া একই রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন কৃষিপণ্য ট্রেনে করে ময়মনসিংহ শহরে নিয়ে বিক্রি করতেন ছোট ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘদিন আগেই বন্ধ হয়ে যায় বিসকা স্টেশনটি।
তবে স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ময়মনসিংহ থেকে ভৈরব, মোহনগঞ্জ ও জারিয়াগামী ট্রেনগুলো খুব অল্প সময়ের জন্য যাত্রাবিরতি দিত। বর্তমানে ভৈরব ও মোহনগঞ্জ রুটের চার জোড়া ট্রেন বন্ধ রয়েছে। শুধু জারিয়া রুটের লোকাল ট্রেন চলাচল করছে। চার জোড়া ট্রেন বন্ধ হওয়ায় বিসকা রেলস্টেশন হয়ে ময়মনসিংহে চলাচলকারী গৌরীপুর ও তারাকান্দা উপজেলার হাজারো দরিদ্র যাত্রী আছেন ভোগান্তিতে।
ময়মনসিংহ রেলস্টেশনের সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ইঞ্জিনসংকটের কারণে ময়মনসিংহ রেলস্টেশন হয়ে আগে চলাচলকারী দুই জোড়া ময়মনসিংহ-ভৈরব ট্রেন বন্ধ হয়ে গেছে কয়েক বছর আগে। ময়মনসিংহ-মোহনগঞ্জ রেলপথে চলাচল করা দুই জোড়া লোকাল ট্রেন বন্ধ হয়ে গেছে এক বছরের কিছু আগে। এ ছাড়া ময়মনসিংহ থেকে দেওয়াগঞ্জগামী, ময়মনসিংহ থেকে যমুনা সেতুগামী ধলেশ্বরী ট্রেনও বন্ধ করা হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে ময়মনসিংহ হয়ে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) রেলপথের একটি মেইল ট্রেন। সব মিলিয়ে মোট আটটি ট্রেন গত কয়েক বছরের মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। এসব ট্রেন কমপক্ষে ১৮ বার চলত প্রতিদিন।
বন্ধ হওয়া উল্লেখযোগ্য স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে ময়মনসিংহ জেলার বিসকা, ঈশ্বরগঞ্জ, সোহাগী, ধলা ও বাইগনবাড়ি, নেত্রকোনা জেলার হিরণপুর, বাংলা ও অতিথিপুর। জামালপুর জেলায় বন্ধ হয়ে উল্লেখযোগ্য রেলস্টেশনগুলো হচ্ছে দুরমুট, জাফরশাহী ও বাউশি।
ময়মনসিংহ রেলস্টেশনের সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘মূলত ইঞ্জিনসংকটের কারণে ট্রেনগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। আর লোকবল সংকটের কারণে অনেক আগে থেকেই বিভিন্ন রেলস্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ হতে শুরু করেছিল। আমরা বিভিন্ন সময় ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে এসব ট্রেন ও স্টেশন পুনরায় চালুর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আবেদন জানিয়েছি।’
রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রকৌশলী নাজমুল হাসান বলেন, ৩০টি ইঞ্জিন কেনার প্রক্রিয়া চলছে। কেনা হলে হয়তো ময়মনসিংহ থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়া ট্রেনগুলো চালু হতে পারে।
সূত্র: kalerkantho.com