রেলওয়ে সংবাদ
নীলসাগরের বগি লাইনচ্যুত, ৩২ ঘণ্টায়ও স্বাভাবিক হয়নি ট্রেনের শিডিউল
টাঙ্গাইলের মহেড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় নীলসাগর এক্সপ্রেসের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার পর ৩২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও উত্তরবঙ্গ-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। এতে ১২টি আন্তঃনগর ট্রেন ৪-৫ ঘণ্টা বিলম্বে চলছে, যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

এক নজরে
- টাঙ্গাইলের মহেড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় নীলসাগর এক্সপ্রেসের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার পর ৩২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও উত্তরবঙ্গ-ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।
- এতে ১২টি আন্তঃনগর ট্রেন ৪-৫ ঘণ্টা বিলম্বে চলছে, যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) টাঙ্গাইলের মহেড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ঢাকা-চিলাহাটি-ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী আন্তঃনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটির একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় ৩২ ঘণ্টা পরও এই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি।
দেশের উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী ১২টি আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেন ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিলম্বে চলাচল করছে। বিকল্প লাইন না থাকায় ছোটখাটো একটি দুর্ঘটনাতেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই রেলরুটের ট্রেনগুলোর সব শিডিউল ভেঙে পড়ে বলে জানান পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের কর্মকর্তারা।
কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, এর ফলে নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী ট্রেনগুলো যেমন ছাড়তে পারছে না, তেমনি গন্তব্যেও পৌঁছতে পারছে না। এতে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকায় যাতায়াতকারী ও ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকামুখী হাজার হাজার যাত্রীকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। স্টেশনে স্টেশনে পড়ে থেকে কষ্ট পাচ্ছেন নারী, শিশু থেকে অসুস্থ মানুষ—যাদের নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে যাওয়ার প্রয়োজন ছিল।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের চিফ ট্রেন কন্ট্রোল অফিসারের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে নীলফামারীর চিলাহাটিগামী আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেন নীলসাগরের শেষের একটি বগি লাইনচ্যুত হয় সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে। ফলে এই পথে চলাচলকারী অন্তত ৮টি আন্তঃনগর ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে। তবে শেষ পর্যন্ত দুর্ঘটনাকবলিত বগিটি রেখেই নীলসাগরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে ঈশ্বরদী থেকে টাঙ্গাইলের মহেড়া স্টেশনের নিকটবর্তী ঘটনাস্থলে পৌঁছায় উদ্ধারকারী একটি ট্রেন। দুর্ঘটনার সাড়ে ৬ ঘণ্টা পর বেলা আনুমানিক পৌনে ৩টার দিকে লাইনচ্যুত বগিটি অপসারিত হলে এই রুটে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। তবে এতে ভেঙে পড়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সব ট্রেনের শিডিউল। ট্রেনগুলো ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়ে ও গন্তব্যে পৌঁছায়। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজশাহীসহ উত্তরের বিভিন্ন স্টেশন থেকে ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর শিডিউল স্বাভাবিক হতে পারেনি।
শুক্রবার সকালে রাজশাহী রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গোদাগাড়ীর প্রেমতলীর খেতুরধামের মেলায় আসা শত শত পুণ্যার্থী ট্রেন না পেয়ে স্টেশন প্রাঙ্গণে অপেক্ষা করছেন। খেতুর মেলায় এ সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সনাতন ধর্মের হাজার হাজার মানুষ আসেন পুণ্য লাভের আশায়।
শুক্রবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে রাজশাহী থেকে ঢাকা অভিমুখে যাত্রার কথা ছিল আন্তঃনগর সিল্কসিটি ট্রেনটির। তবে ৪ ঘণ্টা বিলম্বে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছাড়ে বেলা সাড়ে ১১টায়। বিকাল ৪টায় রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছাড়ার কথা ছিল পদ্মা এক্সপ্রেসের। কিন্তু ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যেতে পারেনি বলে যাত্রী হরেণ চন্দ্র বর্মন জানান। সন্ধ্যার আগে ট্রেনটি ছাড়বে বলে স্টেশনের লোকজন তাদের বলেছেন।
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার জাহিদ হাসান জানান, টাঙ্গাইলে ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে ছেড়ে রাজশাহীগামী বিরতিহীন বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি নির্ধারিত সময় বিকাল ৫টা ৪৫ মিনিটের পরিবর্তে প্রায় ৬ ঘণ্টা বিলম্বে রাত ১২টা ৫ মিনিটে রাজশাহী পৌঁছায়। সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাত ৮টা ২০ মিনিটে রাজশাহী পৌঁছার কথা থাকলেও প্রায় ৬ ঘণ্টা বিলম্বে রাত ২টা ১৫ মিনিটে স্টেশনে আসে।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস রাত ১১টা ২০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও ঢাকার উদ্দেশে রাজশাহী ছাড়ে শুক্রবার ভোর ৪টা ২০ মিনিটে। এই সময়ে শত শত যাত্রী স্টেশনেই নির্ঘুম রাত কাটাতে বাধ্য হন। অন্যদিকে ঢাকা থেকে ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনটি বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী পৌঁছার কথা থাকলেও বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ট্রেনটি রাজশাহীতে পৌঁছতে পারেনি বলে জানা গেছে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পশ্চিমাঞ্চল থেকে ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী পঞ্চগড় থেকে একতা ও পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, নীলসাগর, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস, লালমনি এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস, বুড়িমারী এক্সপ্রেস ও রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনগুলোর শিডিউল এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ট্রেনগুলো এখনো কয়েক ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়ছে ও গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছে। এর ফলে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেনের অপেক্ষায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রীরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পশ্চিম রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আহমেদ হোসেন মাসুম জানিয়েছেন, মেইন লাইনে বিপর্যয় ঘটলে অনেক ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটে। এতে সাময়িকভাবে যাত্রী দুর্ভোগ হয়। তবে শনিবার ভোরনাগাদ শিডিউল স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা করেন তিনি।
সূত্র: jugantor.com