রেলওয়ে সংবাদ
রেলওয়ের দখলকৃত জমি উদ্ধারে উদ্যোগ: মন্ত্রণালয়
বাংলাদেশ রেলওয়ের ৩,০২৪ একর জমি অবৈধ দখলে রয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে দখলকৃত জমি চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এক নজরে
- বাংলাদেশ রেলওয়ের ৩,০২৪ একর জমি অবৈধ দখলে রয়েছে।
- আগামী তিন মাসের মধ্যে দখলকৃত জমি চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের (বিআর) দখলকৃত সব জমি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে ৩,০২৪ একর জমি অবৈধভাবে দখলে রয়েছে।
সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য জানায়। কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী আসগর সভায় সভাপতিত্ব করেন।
দেশজুড়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট জমির পরিমাণ ৬৩,০৭২ একর। এর মধ্যে ২৫,০৮৩ একর জমি লিজ দেওয়া হয়েছে, যা থেকে গত অর্থবছরে ৮৭.৭২ কোটি টাকা আয় হয়েছে।
জমি ব্যবস্থাপনা বিধি অনুযায়ী, লিজ ও লাইসেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ রেলওয়ের অব্যবহৃত জমির পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করবে মন্ত্রণালয়। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।
সম্প্রতি রেলওয়ে জমি ব্যবস্থাপনার জন্য 'রেলওয়ে স্টেট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার' চালু করেছে। এই সিস্টেম অব্যবহৃত জমির পরিকল্পিত ব্যবহার এবং দখলকৃত জমি উদ্ধারে সহায়তা করবে।
পশ্চিমাঞ্চলের এস্টেট বিভাগের অধীনে পাকশী ও লালমনিরহাট বিভাগে বিভাগীয় এস্টেট অফিসারদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যে অবৈধ দখলকৃত জমি চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে স্থাপনা অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, পশ্চিমাঞ্চলের জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের সমন্বয়ে রেলওয়ে জমিতে মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
বৈঠকে অনলাইন রেল টিকিট বিক্রি এবং ই-টিকিট পাচার বন্ধের বিষয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট জমি, লিজ দেওয়া জমি, লিজ থেকে আয়, অবৈধ দখলকৃত জমি এবং জমি সংক্রান্ত মামলা সম্পর্কে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়। চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে নিয়মিত কনটেইনার পরিবহন চলছে। এছাড়া বিভিন্ন গন্তব্যে জ্বালানি ও খাদ্যশস্য পরিবহন করা হচ্ছে।
তবে, বাংলাদেশ রেলওয়ের মিটারগেজ লোকোমোটিভের ঘাটতির কারণে মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা কমেছে। সম্প্রতি ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদন হয়েছে।
এছাড়া, আগে অনুমোদিত আরও ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে মোট ৬০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের মাধ্যমে কনটেইনার, জ্বালানি, খাদ্যশস্যসহ অন্যান্য পণ্য বহনকারী মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হবে।
মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শিগগিরই বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে পর্যায়ক্রমে ২০০টি ব্রডগেজ কোচ যুক্ত হবে। এর মধ্যে ১৮টি কোচ ইতিমধ্যে এসে পৌঁছেছে। ব্রডগেজ কোচের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে মোংলা-ঢাকা রুটে ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শোহোজ ডটকম বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন টিকিট বিক্রি ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও শোহোজ ডটকমের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তি শেষ হওয়ার আগে অনলাইন টিকিট ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে বলে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে জানানো হয়।
বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সংসদ সদস্য আব্দুল মুহিত তালুকদার, এসরাত সুলতানা এলেন ভুট্টো ও মুহাম্মদ আজিজুর রহমানসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: tbsnews.net