রেলওয়ে সংবাদ
রেলওয়েতে আসছে ২০০ নতুন কোচ, মোংলা-ঢাকা রুটে ট্রেন চালুর সম্ভাবনা
বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে ২০০টি ব্রডগেজ কোচ যুক্ত হচ্ছে। এরই মধ্যে ১৮টি কোচ এসে পৌঁছেছে, যা মোংলা-ঢাকা রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর পথ খুলে দিতে পারে।
এক নজরে
- বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে ২০০টি ব্রডগেজ কোচ যুক্ত হচ্ছে।
- এরই মধ্যে ১৮টি কোচ এসে পৌঁছেছে, যা মোংলা-ঢাকা রুটে যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর পথ খুলে দিতে পারে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে শিগগির ২০০টি ব্রডগেজ কোচ পর্যায়ক্রমে যুক্ত হবে। এরই মধ্যে ১৮টি কোচ এসেছে। এসব ব্রডগেজ কোচ প্রাপ্তি সাপেক্ষে মোংলা-ঢাকা রুটে ট্রেন পরিচালনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলি আসগারের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনের স্থায়ী কমিটির কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদার, ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো এবং মুহাম্মদ আজীজুর রহমান অংশ নেন।
সভায় জানানো হয়, বর্তমানে মোংলা বন্দর থেকে টাঙ্গাইলের সয়দাবাদ এবং জয়পুরহাটে সীমিত পরিসরে মোলাসেস পরিবহন করা হচ্ছে। এছাড়া বর্তমানে রেলওয়ের কাছে মোংলা থেকে অন্য কোনো পণ্য পরিবহনের চাহিদা নেই।
সভায় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন ও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সেখানে জানানো হয়, চট্টগ্রাম বন্দর-ঢাকা রুটে নিয়মিত কনটেইনার পরিবহন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গন্তব্যে জ্বালানি ও খাদ্যশস্য পরিবহন চলমান রয়েছে। তবে বর্তমানে রেলওয়ের বহরে মিটারগেজ লোকোমোটিভের সংকট থাকায় মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা কমেছে।
সভায় জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের জন্য গৃহীত প্রকল্পের ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) অনুমোদিত হয়েছে। এছাড়া ইতোপূর্বে অনুমোদিত ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে।
২০২৯ সালের মধ্যে মোট ৬০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা হলে কনটেইনার, জ্বালানি এবং খাদ্যশস্যসহ অন্যান্য মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজস্ব আহরণ বাড়বে। এছাড়া বিশ্ব ব্যাংকের গ্রিন রেলওয়ে প্রকল্পের অধীনে ২০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সভায় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং অপারেটিং রেশিও পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়াও বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট জমি, ব্যবহৃত জমি, ইজারাকৃত জমি, ইজারাকৃত আয়, ইজারাগ্রহীতাদের তালিকা, অবৈধ দখলকৃত জমি, অবৈধ দখলদারদের তালিকা এবং ভূমি-সংক্রান্ত মামলা-বিষয়ক প্রতিবেদন পেশ এবং রেলওয়ের ভূমি/স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন বিষয়ে আলোচনা হয়। অনলাইন রেল টিকিটিং ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে গৃহীত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সম্পর্কেও আলোচনা হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন টিকিট বিক্রি ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সহজ ডটকম। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে সহজ ডটকমের চুক্তি শেষ হওয়ার আগেই অনলাইন টিকিট ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ভেন্ডর নিয়োগের জন্য নতুন দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে মর্মে মন্ত্রণালয় কমিটিকে অবহিত করে।
এসময় কমিটি রেলওয়ের লিগ্যাল ডিপার্টমেন্টে প্রয়োজনীয় আইনজীবী নিয়োগ এবং আদালতে বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তির ব্যাপারে পরামর্শ দেয়। বৈঠকে রেলওয়েকে লোকসান থেকে ধীরে ধীরে লাভজনক খাতে রূপান্তর এবং লেভেল ক্রসিংগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জন্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয় কমিটি।
সভায় ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত রেললাইনের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং বেনাপোল থেকে খুলনা পর্যন্ত সকালে কমিউটার ট্রেন চালু করার জন্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরামর্শও দেওয়া হয়।
সূত্র: jagonews24.com