রেলওয়ে সংবাদ
ফেব্রুয়ারির মধ্যে অনলাইন টিকিটিংয়ের নতুন টেন্ডার আহ্বান করবে রেলওয়ে
শহর ডটকমের সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার আগে ফেব্রুয়ারির মধ্যে অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন টেন্ডার আহ্বানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এক নজরে
- শহর ডটকমের সঙ্গে চুক্তি শেষ হওয়ার আগে ফেব্রুয়ারির মধ্যে অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন টেন্ডার আহ্বানের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
- সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে তাদের অনলাইন টিকিটিং সিস্টেম পরিচালনার জন্য একটি নতুন টেন্ডার আহ্বানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী ফেব্রুয়ারিতে শহর ডটকমের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে। সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় সভায় এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলী আসগরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অনলাইন রেল টিকিটিং ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয় জানায়, চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে নিয়মিত কনটেইনার ট্রেন চলাচল করছে, পাশাপাশি জ্বালানি ও খাদ্যশস্য বিভিন্ন গন্তব্যে রেলে পরিবহন করা হচ্ছে।
তবে বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে মিটারগেজ লোকোমোটিভের ঘাটতির কারণে মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা কমে গেছে। মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানায়, ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সম্প্রতি অনুমোদিত হয়েছে, এবং পূর্বে অনুমোদিত আরেকটি প্রকল্পের আওতায় আরও ৩০টি লোকোমোটিভ সংগ্রহের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে।
২০২৯ সালের মধ্যে এই দুটি গ্রুপের লোকোমোটিভ সংগ্রহ সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ রেলওয়ে কনটেইনার, জ্বালানি, খাদ্যশস্যসহ অন্যান্য পণ্য পরিবহনে মালবাহী সেবা বাড়াতে সক্ষম হবে, যা রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে গ্রিন রেলওয়ে প্রকল্পের আওতায় আরও ২০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের কাজ চলছে।
বৈঠকে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে পর্যায়ক্রমে ২০০টি ব্রডগেজ কোচ যুক্ত করা হবে, যার মধ্যে ইতিমধ্যে ১৮টি পাওয়া গেছে। কমিটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মন্ত্রণালয়ের বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে।
এছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের জমি সংক্রান্ত প্রতিবেদন, ব্যবহারাধীন জমি, লিজ দেওয়া জমি ও অবৈধ দখলকৃত জমি, লিজ থেকে রাজস্ব, লিজধারী ও অবৈধ দখলদারদের তালিকা এবং জমি সংক্রান্ত মামলা পর্যালোচনা করা হয়। রেলওয়ের জমি ও স্থাপনায় সোলার প্যানেল স্থাপন নিয়েও আলোচনা হয়।
কমিটি রেলপথ মন্ত্রণালয়কে বাংলাদেশ রেলওয়ের আইন বিভাগের জন্য আইনজীবী নিয়োগ এবং বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তির পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করে। পাশাপাশি রেলওয়েকে লাভজনক করতে ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নেওয়া এবং লেভেল ক্রসিংয়ে পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়।
কমিটি ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং বেনাপোল-খুলনা রুটে সকালের কমিউটার ট্রেন চালুর সুপারিশ করে। বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, আব্দুল মহিত তালুকদার, এশরাত সুলতানা এলেন ভুট্টো ও মুহাম্মদ আজিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: jagonews24.com