রেলওয়ে সংবাদ
প্রভাতী ট্রেনের অভাবে পদ্মা রেলসেতুর সুবিধাবঞ্চিত যশোর অঞ্চলের মানুষ
পদ্মা সেতু চালুর পরও প্রভাতী ট্রেন না থাকায় যশোর অঞ্চলের মানুষ রেলসেতুর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি ৬ দফা দাবিতে আন্দোলন ও প্রতীকী রেল অবরোধ করেছে।

এক নজরে
- পদ্মা সেতু চালুর পরও প্রভাতী ট্রেন না থাকায় যশোর অঞ্চলের মানুষ রেলসেতুর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
- বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি ৬ দফা দাবিতে আন্দোলন ও প্রতীকী রেল অবরোধ করেছে।
পদ্মা সেতু চালুর পর রেল যোগাযোগে আশায় বুক বেঁধেছিল যশোর অঞ্চলের মানুষ। বিগত সরকারের অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে সুফল বঞ্চিত জনগণ। সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকায় ক্ষুব্ধ যশোরবাসী।
অবিলম্বে যশোর থেকে ঢাকা রুটে প্রভাতী ট্রেন চালু ও বেনাপোল-যশোর-ঢাকা রুটে এবং দর্শনা-কোটচাঁদপুর-যশোর-ঢাকা রুটে তিনটি ট্রেন চালুসহ ৬ দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি।
মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে প্রতীকী রেল অবরোধ ও রেলমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। স্মারকলিপি গ্রহণকালে জেলা প্রশাসক বলেছেন, যশোরবাসীর দাবি যৌক্তিক। সরকার দাবি বাস্তবায়নে আন্তরিক আছে।
জানা যায়, বেনাপোল, যশোর, মোবারকগঞ্জ এবং কোটচাঁদপুর থেকে প্রতিদিন ঢাকার উদ্দেশে বিপুল পরিমাণ যাত্রী যাতায়াত করেন। এখানে রেলের ট্রিপ বাড়ালে বাংলাদেশ রেলওয়ে তথা সরকার আর্থিকভাবে বিপুল লাভবান হবে। কারণ রেল যোগাযোগ শুধু নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধবই নয়, এর রক্ষণাবেক্ষণ খরচও সড়কপথের চেয়ে অনেক কম।
২০২৩ সাল থেকে এই ন্যায্য দাবিতে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে আসছেন যশোরবাসী। রেলমন্ত্রী, রেল সচিব, রেলের ডিজি, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। রেল সচিব ও ডিজির সঙ্গে যৌথ মতবিনিময় ছাড়াও একাধিকবার মানববন্ধন, বিক্ষোভ, দুইবার রেল অবরোধ ও কালো পতাকা প্রদর্শন এবং রেলের ডিজিকে অবরুদ্ধ করা হয় কিন্তু দাবি আদায় হয়নি।
মঙ্গলবার প্রতীকী রেল অবরোধ শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রেলমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বৃহত্তর যশোর রেল উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি। দাবিগুলো হলো- অবিলম্বে বেনাপোল/দর্শনা সীমান্ত-যশোর-ঢাকা রুটে ১টি প্রভাতী আন্তঃনগর ট্রেনসহ মোট ৩টি নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু করতে হবে। সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে সব আন্তঃনগর ট্রেনে পর্যাপ্ত সাধারণ বগি যুক্ত করতে হবে। দর্শনা-খুলনা রুট এবং বেনাপোল-যশোর রুটে দ্রুত ডবল রেল লাইন স্থাপন করতে হবে। বেনাপোল বা দর্শনা সীমান্ত থেকে যশোর-ঢাকা রুটে নিয়মিত কমিউটার ট্রেন চালু করতে হবে। সিঙ্গিয়া রেলস্টেশনে অবিলম্বে ‘রেল কনটেইনার টার্মিনাল’ চালু করে বাণিজ্যিক সুবিধা বাড়াতে হবে। রেলকে দেশের গণযোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
সাংস্কৃতিক কর্মী ও আন্দোলন কমিটির সদস্য দীপংকর দাস রতন বলেন, প্রভাতী ট্রেন চালু হলে এ অঞ্চলের মানুষের খুবই উপকার হবে। সকালে ঢাকায় গিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে সন্ধ্যায় যশোর ফিরতে পারবে। একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়বে।
শ্রমিক নেতা মাহবুবুর রহমান মজনু বলেন, সরকার অর্থনৈতিক সংকট দেখিয়ে রেল চালু না করলে, সেটা জনগণ মেনে নেবে না। জনগণের এয়ারবাস, উড়োজাহাজের দরকার নেই। তাদের দরকার ট্রেন। সরকার এ বিষয়টি যত দ্রুত অনুভব করবে, ততই মঙ্গল সবার।
বাম নেতা তসলিম উর রহমান বলেন, রেলের দায়িত্বশীলদের আঞ্চলিকতা ও স্বজনপ্রীতির কারণে যশোর অঞ্চলের মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে। বিদেশ থেকে রেল কোচ আমদানি করা হলেও যশোরে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না। সেগুলো দেশের অন্য অঞ্চলে দেওয়া হচ্ছে। যশোরে একটি মাত্র ট্রেন দেওয়া হয়েছে। সেটি লাভজনক হয়েছে। আরও তিনটি ট্রেন দিলে, সেগুলোও লাভজনক হবে।
বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক কাওসার আলী বলেন, তিন বছর ধরে আমরা আন্দোলন করছি। বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও দাবি বাস্তবায়ন হয়নি। প্রতীকী অবরোধ কর্মসূচি পালন করলাম। সরকার দাবি না মানলে কঠোর অবরোধ কর্মসূচি দিয়ে বাধ্য করা হবে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আশেক হাসান বলেন, প্রভাতী ট্রেনসহ দাবিগুলো যৌক্তিক। আমরা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। সরকার এ ব্যাপারে আন্তরিক আছে।
সূত্র: jugantor.com